ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাজেট ২০২৬-২৭

মাদক শুল্ক থেকে ১৪৩৪ কোটি টাকা আয় করতে চান অর্থমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১১ Time View

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদক শুল্ক থেকে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাইরে কর রাজস্ব আহরণের অন্যতম উৎস হিসেবে এ খাত থেকে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি আয় করতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতির সামনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করে এই আয়ের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটা হতে যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

মূল দর্শন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই এই বাজেটের মূল দর্শন।

ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

এই রাজস্ব আয় করতে মাদক শুল্ক থেকে ৩৩৪ কোটি টাকা বাড়তি আয়ের পরিকল্পনা করছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাদক শুল্ক থেকে ৮৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে, সংশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা করা হয়।

আগামী অর্থবছরে তা আরও ৩৩৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মাদক শুল্ক থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭২৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে মাদক শুল্ক থেকে আয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে।

মাদক শুল্কসহ অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব খাত থেকে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে স্ট্যাম্প বিক্রি (নন-জুডিশিয়াল) খাত থেকে।

এছাড়া, যানবাহন কর থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা, ভূমি রাজস্ব থেকে ৪ হাজার ৯১২ কোটি টাকা এবং সারচার্জ থেকে ২ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬২৯০০০ কোটি

এদিকে, আগামী অর্থবছরে মোট কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

এক্ষেত্রে, আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর থেকে আসবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এছাড়া, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর থেকে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর রাজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা করা হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বাজেট ২০২৬-২৭

মাদক শুল্ক থেকে ১৪৩৪ কোটি টাকা আয় করতে চান অর্থমন্ত্রী

Update Time : ০৭:৪১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদক শুল্ক থেকে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাইরে কর রাজস্ব আহরণের অন্যতম উৎস হিসেবে এ খাত থেকে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি আয় করতে চায় সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতির সামনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করে এই আয়ের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটা হতে যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।

মূল দর্শন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই এই বাজেটের মূল দর্শন।

ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

এই রাজস্ব আয় করতে মাদক শুল্ক থেকে ৩৩৪ কোটি টাকা বাড়তি আয়ের পরিকল্পনা করছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাদক শুল্ক থেকে ৮৫০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে, সংশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা করা হয়।

আগামী অর্থবছরে তা আরও ৩৩৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মাদক শুল্ক থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭২৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে দুই বছরের ব্যবধানে মাদক শুল্ক থেকে আয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে।

মাদক শুল্কসহ অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব খাত থেকে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে স্ট্যাম্প বিক্রি (নন-জুডিশিয়াল) খাত থেকে।

এছাড়া, যানবাহন কর থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা, ভূমি রাজস্ব থেকে ৪ হাজার ৯১২ কোটি টাকা এবং সারচার্জ থেকে ২ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬২৯০০০ কোটি

এদিকে, আগামী অর্থবছরে মোট কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

এক্ষেত্রে, আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর থেকে আসবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এছাড়া, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর থেকে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর রাজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা করা হবে।